
১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি একাধারে মুক্তিযোদ্ধা, সংগীতশিল্পী, মডেল-অ’ভিনেতা ও ক্রিকেটার। পুরো নাম মোহাম্ম’দ মাহবুবুল হক খান হলেও ‘আজম খান’ নামে সর্বাধিক পরিচিত তিনি।
পপ ও ব্যান্ড সংগীতকে বাংলাদেশে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। তাকে ‘পপ সম্রাট’ এবং ‘গুরু’ নামেও বেশ পরিচিত ছিলেন আজম খান। ২০১১ সালের ৫ জুন না ফেরার দেশে চলে যান পপ সম্রাট। ক্যানসারের কাছে হার মেনে নিভে যায় তার জীবনপ্রদীপ। আজকের এ দিনে গুরুর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।
পপ গানে দেশীয় বিষয় যোগ আর পরিবেশনে স্বতন্ত্ররীতি ছিল তার গানের বিশেষত্ব। আজম খানের জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- ‘বাংলাদেশ (রেল লাইনের ঐ বস্তিতে)’, ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘অনামিকা’, ‘অ’ভিমানী’, ‘আসি আসি বলে’ ইত্যাদি। সংগীতে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে ম’রণোত্তর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসাম’রিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।
৭২ সালে বন্ধুদের নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘উচ্চারণ’ ব্যান্ড দল। বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান করার মাধ্যমে পরিচিতি পায় দলটি। তার দুই বছর পর ‘বাংলাদেশ’ শিরোনামের গানের মাধ্যমে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তারা। আজম খানের প্রথম অডিও অ্যালবাম ‘এক যুগ’। ১৯৮২ সালে প্রকাশ হয়েছিল এটি। তারপর সব মিলিয়ে ২৫টি অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলেন আজম খান।
আজম খানের সবশেষ অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছিল তার মৃ’ত্যুর পর। ২০১১ সালের আগস্টে ‘গুরু তোমায় সালাম’ নামের অ্যালবামটি প্রকাশ করেছিল ইমপ্রেস অডিও ভিশন।আজম খানের বাবা মোহাম্ম’দ আফতাবউদ্দিন খান ও মা জোবেদা খাতুন। তিন ভাই ও এক বোন ছিল আজম খানের। ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি সাহেদা বেগমকে বিয়ে করেন আজম খান। তাদের সন্তানদের নাম ই’মা খান, হৃদয় খান এবং অরণী খান।
১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে পা’কিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বি’রুদ্ধে অবস্থান নেন আজম খান। ‘ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী’র হয়ে পা’কিস্তানি শোষণের বি’রুদ্ধে গণসংগীত প্রচার করতেন তিনি। বাবার অনুপ্রেরণায় ১৯৭১ সালে যু’দ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আজম খান। আগরতলা হয়ে ভা’রতে প্রবেশ করেন এবং মেলাঘরের শি’বিরে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২১ বছর বয়সে মুক্তিযু’দ্ধে অংশ নেন আজম খান। ২ নম্বর সেক্টরের গেরিলা যোদ্ধা এবং সেকশন ইনচার্জ ছিলেন তিনি।
আজম খানের স্মৃ’তিচারণ করে ‘আমি যারে চাইরে’ গানের স্রষ্টা লাবু রহমান লিখেছেন, ‘আজম খান যেমন ছিলেন বড় মনের মানুষ, তেমনই সংগীতের জন্য নিবেদিত একজন। আমা’র গিটার বাজানো তিনি খুবই পছন্দ করতেন। তাই আজম ভাইয়ের জন্য নতুন কিছু সৃষ্টির উদ্দীপনাও কাজ করত। একদিন আজম ভাইকে বললাম, আমা’র একটা গান আছে, গাইবেন কিনা। শোনাতে বললেন। আমি গান গাইতে তিনি তা সহ’জেই তুলে ফেললেন, আমি যারে চাইরে, সে থাকে মোর এ অন্তরে।’
আজম খানকে নিয়ে ফকির আলমগীর লিখেছেন, ‘ইতিহাসের অনিবার্যতায় একজন আজম খানের জন্ম হয়েছিল। আজম খান ছিলেন এক জীবন্ত ইতিহাস। একদিকে সরল–সহ’জ সাদাসিধে, অন্যদিকে অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা। মানুষের সংকটের মুহূর্তে আজম খান তার গানের মধ্য দিয়ে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির কথা বলেছেন।’
কিংবদন্তি আজম খানের মৃ’ত্যুতে সেদিন কেঁদেছিল অসংখ্য মানুষ। তার স্বাক্ষী ছিল বাংলার আকাশ-বাতাস। আজম খানের গাওয়া গানগুলো আজও ঝড় তুলে কোটি ভক্তের হৃদয়ে। অসংখ্য ভক্ত আর সংগীতপ্রে’মীদের হৃদয়ে ‘গুরু’ আছেন, থাকবেন যতদিন পৃথিবী থাকবে।






