
মা দিবস! সাধারণত মে মাসের দ্বিতীয় রোববার কে মা দিবস হিসাব অ’ভিহিত করা হয়ে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ৯ ই মে বিশ্ব মা দিবস। প্রতি বছর এই দিবসটি যথাযথ ম’র্যাদায় পালিত হয়।
যদিও মাকে ভালবাসা জানাতে কোনো দিনক্ষণ লাগে না; তবুও মায়ের জন্য ভালোবাসা জানানোর দিন আজ। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ট শব্দ মা। মায়ের চেয়ে সহ’জ গভীর কোন অনুভূতি নেই।আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তত এ দিনটি মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশ এবং নানাভাবে মায়ের মমত্ববোধ উপস্থাপনের সুযোগ আসে মা দিবসে। মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রকাশের মধ্যে দিয়ে দিবসটি হয়তো উৎসবে পরিণত হয়েছে।
গর্ভধারিণী মাকে ভালোবাসার জন্য আসলে কোন বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয়না। মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রতিটা মুহুত্বেই প্রকাশ করা যায়। অন্যদিকে, কোন কোন মা বৃদ্ধাশ্রমে শুয়ে বসে একাকিত্ব যন্ত্র’ণায় চোখের পানি ফেলছেন প্রিয় সন্তানের মুখটি একটিবার দেখার জন্য।
দিনে দিনে ভালবাসা আর মমত্ববোধ কমে যাচ্ছে মায়ের প্রতি সন্তানদের। আবার কোন মা সন্তানের অবহেলা অনাদর সহ্য করতে না পেরে বৃদ্ধাশ্রমে বা বিভিন্ন প্রবীণ আবাসন কেন্দ্রে চলে যায়। সেখানে চার দেওয়ালে নিজেকে ব’ন্দি করে রেখে কোন রকমে বেঁচে থাকেন। আবার এমনও অনেক ঘটনা রয়েছে মাকে নিজ সন্তান মা’রধোরসহ নানা ভাবে অ’ত্যাচার করে আসছেন। ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা শহরের প্রবীণ আবাসন কেন্দ্রে ঘুরে দেখা মিলেছে অনেক মায়ের । কারও বা স্বামী সংসার নেই। আবার কেউ সন্তানের অবহেলায় জীবনের শেষ দিনগুলো বৃদ্ধাশ্রমের আবদ্ধ দেওয়ালের মধ্যেই পার করছেন।
বৃদ্ধাশ্রমে কেন এসেছে এ বিষয়ে এক মায়ের কাছে জানতে চাইলে বলেন, “ছে’লে বিয়ে করে বউ পেয়ে আমি মা,আমাকে ভূলে গেছে। অবহেলা অনাদর সহ্য করতে না পেরে বৃদ্ধাশ্রমে এসেছি। এটাই শেষ ঠিকানা এখন। আমা’র ছে’লে আমাকে কখনো দেখতে আসেনি। কখনো জানতে চাইনি মা তুমি কেমন আছো ! ছে’লেকে দেখতে খুব মন চাই। কিন্তু সাহস পাইনা দেখতে যাওয়ার। আমা’র কারনে যদি তার সংসারে ঝামেলা হয়।
অন্যদিকে, জাহানারা খাতুন নামে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা আরেকজন মা জানান, ছে’লেরা সবাই ভাল চাকরি করেন। আমা’র দিকে তারা খেয়াল করেনা। ভাল আছি না খা’রাপ আছি সেটা কখনো জানতো চাইনা। আমা’র মৃ’ত্যু জন্য হয়তো তারা অ’পেক্ষা করে আছে। তারা সবাই নিজের ছে’লে-মে’য়ে স্ত্রী’ সংসার নিয়ে ব্যস্ত।মা দিবসের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, মা দিবস কি সেটা জানেন না তিনি। বেঁচে থাকার শেষ দিনগুলো যেখানে ক’ষ্টে কে’টে যায়। সেখান মা দিবস দিয়ে আর কি হবে এমনিটি অ’ভিমত এ মায়ের।
আবার অনেক মায়েরা অনেক সৌভাগ্যবান হয়ে থাকেনও বটে। তার নমুনাস্বরুপ বলা যায় জে’লার তালা উপজে’লার সদরের রহিমা বেগম নামে এক মায়ের বয়স ৯৮ বছর। প্রায় বিশ বছরের বেশি সময় তিনি অচল হয়ে পড়ে আছেন। কখনো তার কোন কিছুই ত্রুটি হতে দেননি তার এক মাত্র ছে’লে আব্দুল জলিল মিয়া। জলিল মিয়া পেশায় সামান্য দিনমজুর। নিজের সামান্য উপার্জন থেকে রোজ মায়ের জন্য ঔষধ ও ভাল খাবারের ব্যবস্থা করেন। তার মা এতটা বছর ধরে অ’সুস্থ হয়ে পড়ে আছেন তবুও এতটুকু্ও ভালবাসা কমেনি মায়ের প্রতি। মায়ের কাপড় ধোয়া, রোজ সকালে ঘুম থেকে ডেকে তুলে খাবার দেওয়াসহ যাবতীয় কাজ নিজে হাতে জলিল মিয়া।
হাতে ধ’রা কয়েকজন মায়ের এমন সৌভাগ্য হয়। তাছাড়া দেখা গেছে, অধিকাংশ মায়েরাই প্রকৃত পক্ষ্যে ভাল নেই। অবহেলা আর অনাদরে খুব ক’ষ্টে কোন রকমে বেঁচে আছেন। মা দিবসের সবটুকু শ্রদ্ধা আর ভালবাসা আজও হয়তো মায়েদের পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি।অ’পরদিকে, বৃদ্ধাশ্রমে থাকা সব মায়ের গল্পগুলো এমনি বিস্ময়কর। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে সেটা কখনো ভাবেতেও পারেনি বয়সের ভা’রে নুয়ে পড়া এই মানুষগুলো। বৃদ্ধাশ্রম যেন কোন মায়ের শেষ ঠিকানা না হয় সেটাই দাবি বৃদ্ধাশ্রমে থাকা সব মা’দের।






