
সারাদেশের মানুষ আমাকে ভালোবাসা পাঠাচ্ছেন। এটাই আমা’র জন্ম’দিন উদযাপন। ফেসবুক, মুঠোফোনে যারা শুভেচ্ছা, ভালোবাসা পাঠাচ্ছেন তাদের প্রতি আমা’র কৃতজ্ঞতা। সবাই সুস্থ থাকুক, ভালো থাকুক এটাই আমা’র ভালো লাগা।’
মঙ্গলবার (১ জুন) দুপুরে রাইজিংবিডির সঙ্গে আলাপকালে কথাগুলো বলেন গুণী অ’ভিনয়শিল্পী চঞ্চল চৌধুরী।১৯৭৪ সালের ১ জুন পাবনার সুজানগরের বোয়ালিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন চঞ্চল চৌধুরী। তার শৈশব ও দুরন্ত কৈশোরও কে’টেছে সেখানে। এ পর্যায়ে জীবন নিয়ে নিজের উপলদ্ধির কথা জানিয়েছেন এই অ’ভিনেতা-গায়ক। তার ভাষায়—‘মানুষের জন্ম কর্মের জন্য। জন্ম’দিনটা কোনো বিষয় না। আমা’র মতো কোটি কোটি মানুষের জন্ম’দিন আছে।
অর্থাৎ প্রত্যেক মানুষের জন্ম’দিন রয়েছে। এই দিনটি যাতে মানুষ মনে রাখে, মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়, সৎভাবে দেশের জন্য, মানুষের জন্য যাতে কাজ করা যায়—এটাই আমা’র উপলদ্ধি।সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্ত-অনুরাগীদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন চঞ্চল। আর এই প্রাপ্তিটা তার কর্মের জন্য। তা উল্লেখ করে এই অ’ভিনেতা বলেন—‘এই জীবনে ভালো কিছু কাজ যদি করতে পারি তবেই আমি সার্থক। জন্ম যেখানে যেভাবেই হোক না কেন কর্মটাই আসল। জন্ম’দিন কবে, কোথায়, কোন ধ’র্মে জন্ম হলো, এসবের চেয়ে বড় কথা হলো আমি কী’ কর্মটা করলাম। কর্মের জন্যই মানুষ মনে রাখবে। আজকে যত মানুষ আমাকে ভালোবাসা দিচ্ছে এর পেছনে রয়েছে আমা’র কর্ম।’
১৯৯৬ সালে মামুনুর রশীদের আরণ্যক নাট্যদলের সঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়েই অ’ভিনয় জীবনের শুরু হয় চঞ্চল চৌধুরীর। তার অ’ভিনীত প্রথম মঞ্চনাট’ক আরণ্যক নাট্যদলের ‘কালো দৈত্য’। পরবর্তীতে এই নাট্যদলের হয়ে ‘সংক্রান্তি’, ‘রাঢ়াঙ’, ‘শত্রুগণ’ সহ অনেক নাট’কে কাজ করেন এই অ’ভিনেতা। ফরিদুর রহমানের ‘গ্রাস’ নাট’কের মাধ্যমে টেলিভিশন নাট’কে অ’ভিষেক হয় তার। মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী’র ‘তাল পাতার সেপাই’ নাট’কে অ’ভিনয় করে দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তারপর মঞ্চের পাশাপাশি বিরামহীন কাজ করতে থাকেন টিভি নাট’কে।
২০০৬ সালে তৌকির আহমেদ পরিচালিত ‘রূপকথার গল্প’ দিয়ে বড় পর্দায় পা রাখেন চঞ্চল চৌধুরী। ২০০৯ সালে গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘মনপুরা’ সিনেমায় সোনাই চরিত্রে অ’ভিনয় করে দারুণ আলোচনায় উঠে আসেন এই শিল্পী। এই সিনেমায় অ’ভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অ’ভিনেতা হিসেবে ৩৪তম আসরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি। চঞ্চল চৌধুরী অ’ভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো—‘মনপুরা’ (২০০৯), ‘মনের মানুষ’ (২০১০), ‘আয়নাবাজি’ (২০১৬), ‘দেবী’ (২০১৮), ‘তকদীর’ (২০২০)।






