প্রচ্ছদ খাদ্য ও পুষ্টি

সবুজ আমিষের উৎসঃ স্পিরুলিনা

64
সবুজ আমিষের উৎসঃ স্পিরুলিনা

নিরামিষভোজীদের দুঃখ একটাই, তারা যতই শাকসবজি খান না কেন, তা থেকে প্রয়োজনীয় আমিষ পাওয়াটা দুরূহ। অথচ শরীরের কোষ গঠন এবং ক্ষয় পূরণের জন্য আমিষ যে ভীষণ জরুরি।

এসব দরকারি আমিষ পাওয়া যায় সাধারনত মাছ-মাংস অর্থাৎ এমন সব খাবার যা থেকে দূরে থাকেন নিরামিষভোজীরা। তাদের খাবারে আমিষের এই অভাব দূর করতে পারে স্পিরুলিনা, কারন সবুজ রঙের এই খাবারটিতে আছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন।

স্পিরুলিনা জিনিসটা কি?

সহজ ভাষায়, এটি একটি শ্যাওলা। নীলচে-সবুজ এই এককোষী শ্যাওলাটি দেখতে প্যাঁচানো (spiral) যা থেকে এর নাম হয়েছে স্পিরুলিনা। এর গন্ধ এবং স্বাদ অনেকটাই sea weed বা ভক্ষণযোগ্য সামুদ্রিক শৈবালের মত।

দূষণমুক্ত এবং প্রচুর আলোবাতাস পায় এমন মিঠাপানির উৎসগুলোতে জন্মায় এই শ্যাওলাটি। এই বিশ্রী সবুজ শ্যাওলাটি কিন্তু অনেক উপকারী। প্রতিদিনকার খাদ্যের পরিপূরক হিসেবে স্পিরুলিনা ব্যাবহার হয়ে আসছে অনেক জনগোষ্ঠীতেই।

মূলত ১৯৭০ সাল থেকে স্পিরুলিনার গুণাগুণ সম্পর্কে মানুষ জানা শুরু করেছে এবং পুষ্টির উৎস হিসেবে ব্যাপকভাবে একে ব্যাবহার করা শুরু করেছে।

স্পিরুলিনার গুণাগুণঃ

স্পিরুলিনায় আছে প্রচুর পরিমানে উদ্ভিজ্জ আমিষ, ৬০-৬৩% যা কিনা মাছ বা মাংসের চাইতে ৩-৪ গুণ বেশি। এছাড়াও আছে এমন সব ভিটামিন, মিনারেল এবং বেটা-ক্যারোটিন, যা নিরামিষাশীদের পক্ষে পাওয়া কঠিন।

এসব উপাদানের আছে সুস্বাস্থ্য গঠন সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর ক্ষমতা।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে স্পিরুলিনাঃ

স্পিরুলিনার অন্যতম বিশিষ্ট হল এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে বেটা-ক্যারোটিন। এই উপাদানগুলো সারা শরীরে ছড়িয়ে গিয়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর সুরক্ষা ব্যাবস্থা গড়ে তোলে, যার ফলে ক্যান্সার থেকে শরীর থাকে নিরাপদ।

কৃত্রিম বেটা-ক্যারোটিনের চাইতে এই প্রাকৃতিক বেটা-ক্যারোটিন অনেক বেশি নিরাপদ এবং কার্যকর।

কমিয়ে আনতে পারে বার্ধক্যের হারঃ

গাজর কমিয়ে আনতে পারে বার্ধক্যের হার, এটা জানেন স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই এবং তাদের প্রতিদিনের মেনুতে থাকে টাটকা গাজর অথবা গাজরের কোন রেসিপি।

অথচ স্পিরুলিনায় থাকে গাজরের চাইতে ১০ গুণ বেশি বেটা-ক্যারোটিন যা কিনা বার্ধক্য কমিয়ে আনার অন্যতম হাতিয়ার। ভিটামিন বি-১২ পাওয়ার সর্বোত্তম প্রাকৃতিক উৎস হল এই স্পিরুলিনা, যা দেহের কোষ-কলা এবং স্নায়ুকে সুস্থ রাখে।

দেহকোষগুলোকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে স্পিরুলিনা।

পরিপূর্ণ আমিষের উৎসঃ

স্পিরুলিনার প্রায় অর্ধেকটাই আমিষ। আমিষ তৈরি হয় এমিনো এসিড দিয়ে এবং মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব কয়টি এমিনো এসিড(২২ টি) এর সব কয়টিই আছে স্পিরুলিনায়।

তাই গুরুপাক মাছ-মাংস খাওয়ার চাইতে শুধুমাত্র স্পিরুলিনা খেয়েই আমিষের সবটা অভাব মেটানো সম্ভব। স্পিরুলিনায় যে আমিষ আছে তা লঘুপাক, তাই পরিপাকতন্ত্রও থাকে সুস্থ। দিনে মাত্র ১০ গ্রাম স্পিরুলিনা খেয়ে দৈনিক আমিষ চাহিদার ৭০% মেটানো সম্ভব।

দিতে পারে অদম্য শক্তিঃ

স্পিরুলিনার অসংখ্য পুষ্টি উপাদান শরীরকে রাখে সুস্থ এবং সহজে হজম করা যায় বলে শরীরে এই উপাদানগুলো শোষিতও হয় তাড়াতাড়ি। পেশিকলা গঠনে এটি রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা।

এছাড়াও এটি শরীর থেকে বের করে দেয় দিনের পর দিন জমে ওঠা ক্ষতিকর সব টক্সিন। এটি পরিশ্রম করার ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ওজনও রাখে নিয়ন্ত্রনে।

কিভাবে খাবেনঃ

স্পিরুলিনা পাওয়া যায় ট্যাবলেট এবং গুঁড়ো হিসেবে। স্পিরুলিনার গুঁড়ো পানিতে অথবা জুসের সাথে গুলে খেতে পারেন। ট্যাবলেট খেতে পারেন দিনে ৪-৬ টা। তবে আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।