প্রিয় মুহূর্তে ভালো থাকুন সঙ্গীর সাথে

প্রিয় মুহূর্তে ভালো থাকুন সঙ্গীর সাথে
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

একটা সম্পর্কের ভেতরে থাকে নানা টানাপোড়ন। বাহ্যিক দুনিয়ার চাপ আর নিজেদের ভেতরকার বোঝাবুঝির যে যুদ্ধ চলে সারাক্ষণ এসব নিয়ে অনেক জুটি হাঁপিয়ে ওঠেন। কিন্তু সম্পর্কের সৌন্দর্য মাঝে মাঝে একটা-দুটো মুহূর্তের উপর নির্ভর করে। আর সেই মুহূর্তগুলো নষ্ট হয়ে গেলে মন বিষিয়ে ওঠে।

সম্পর্ককে আসলে একটি চারাগাছের মতো যত্ন করতে হয়। গাছের যেমন প্রয়োজন আলো-বাতাস-পানি, তেমনি সম্পর্কের আছে কিছু চাহিদা। তা পূরণ না করলে সম্পর্ক ধীরে ধীরে তিক্ত হয়ে ওঠে।

হয়তো কোনো জুটি রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছেন বা বাইরে কোথাও বেড়াতে গিয়েছেন একসাথে, তখন এমন কোনো প্রসঙ্গ উঠল যা নিয়ে তাদের মতের অমিল আছে… ব্যাস পুরো দিন মাটি হয়ে গেল। দু’জন দু’দিকে মুখ ফিরিয়ে থাকলেন বা এমন সব কথা বললেন যা তাদের সুন্দর মুহূর্তকে নষ্ট করে দিল নিমিষেই।

এসব ক্ষেত্রে একটু সচেতন হওয়া উচিত। সবসময় সব বিষয় নিয়ে আলোচনা না করলেও চলে। আর এমন নয় যে সঙ্গীর দোষত্রুটি নিয়ে সারাক্ষণ কথা বললেই সমস্যার সমাধান করা যাবে।

আরও পড়ুন:  মেয়েদের যে “শারীরিক” ব্যাপারগুলো দেখলে সব পুরুষই আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেন!

কোনো অভাব-অভিযোগ থাকলে সেটা নিয়ে আলাদা করে কথা বলতে হবে। কিন্তু সুন্দর মুহূর্তগুলোকে সুন্দরভাবেই কাটানো উচিত। যে সম্পর্কের সুন্দর মুহুর্তের স্মৃতি বেশি তারা তাদের দোষত্রুটি নিয়ে পড়ে থাকেন না। কিন্তু এমন যদি হয় যে সারাক্ষণ অভিযোগ করে চলেছেন তাহলে সুন্দর স্মৃতি জমবে কী করে?

প্রতিটা মানুষেরই কিছু ভুল কিছু দোষ থাকতে পারে, সেটাকে একপাশে সরিয়ে রেখেও সম্পর্ক নিয়ে সুন্দরভাবে এগুনো যায়, শুধুমাত্র ভালোবাসার জায়গাটা ঠিক থাকলে। আর সেই জায়গাটা ঠিক থাকলে অনেক কিছুই এড়িয়ে গিয়ে ভালো থাকা যায়।

সে জন্য দরকার একটি মাইন্ড সেটআপ। আপনি যদি আপনার চাওয়া-পাওয়া, আপনার ইচ্ছা ইত্যাদি নিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে সঙ্গীর কাছ থেকেও আপনি একই আচরণ পেতে পারেন। নিজে যদি একটু ধৈর্য নিয়ে সঙ্গীর ইচ্ছার মূল্য দিতে পারেন তাহলে দেখা যাবে আপনার সঙ্গীও আপনার ইচ্ছাকেই মূল্য দিচ্ছেন।

তাই এভাবে মনকে তৈরি করতে হবে যে কোনো সুন্দর সময়ে সঙ্গীর সাথে জীবনের আর সম্পর্কের সুন্দর বিষয়গুলো নিয়েই কথা বলবেন। জীবন যদি আপনাকে সুন্দর মুহুর্ত উপহার দেয় আর আপনি তার মাঝে কেন জটিল বিষয়গুলো নিয়ে এসে মুহূর্ত নষ্ট করে দেবেন?

আরও পড়ুন:  স্ত্রী পরকীয়া করার কারণ

আর যদি এমন কিছু হয়েও যায়, অর্থাৎ এমন কোনো কথা বা এমন কোনো বিষয় ঘটে যা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে বা আপনাকে রাগান্বিত করছে, তা ওই সময়ে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করুন। রাগকে প্রশমন করুন আর মুহুর্তে ফিরে আসার চেষ্টা করুন।

আমি কেন প্রথমে ভালো আচরণ করব’ এমন ধরনের ছেলেমানুষী ইগো থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আর সম্পর্ক ঠিক রাখতে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা আপনাকে সার্বিক জীবনযাপনে ভালো থাকতে সাহায্য করবে।

তবে এক পক্ষ থেকেই যদি সম্পর্ক ঠিক রাখার এই আগ্রহ থাকে আর অন্যপক্ষ তা বুঝতে চেষ্টা না করেন তাহলে সেটাও একটা তিক্ত অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করবে। তাই দু’জনে মিলেই সম্পর্ককে সময় দিতে হবে। মনে রাখবেন আপনার সম্পর্ক সুন্দর না রাখতে পারলে কোনো ভাবেই আপনি ভালো থাকবেন না। তাই সময় দিন, নিজেকে, নিজের সম্পর্ককে।

বাংলা হেলথ কেয়ার /এসপি

  • 13
    Shares