শরীরের জন্য উপকারী করলার ১০ টি মজাদার রেসিপি

শরীরের জন্য উপকারী করলার ১০ টি মজাদার রেসিপি
পড়া যাবে: 5 মিনিটে

করলাএকটু তিতা হলেও এর স্বাদ কিন্তু দারুন। আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী এই সবজিটি। আজ দেখাবো এই করলার তৈরি ১০ টি মজাদার রেসিপি।আশা করছি উপকৃত হবেন।

চিংড়ি পুরে করলা

উপকরণ :১. চিংড়ি ১০০ গ্রাম,২. পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ,৩. হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ,৪. করলা ২৫০ গ্রাম,৫. মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ,৬. লবণ পরিমাণমতো,৭. জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ,৮. তেল কোয়ার্টার কাপ,৯. কাঁচা মরিচ কুচি ২ টেবিল-চামচ,১০. ধনিয়াপাতা প্রয়োজনমতো।

প্রণালি :> প্রথমে করলা মাঝখানে কেটে বিচিগুলো বের করতে হবে। এবার লবণ মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। তারপর কড়াইতে তেল দিয়ে তাতে পেঁয়াজ ও চিংড়ি মাছ একে একে সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। মাছ হয়ে গেলে করলার মধ্যে তা পুরে দিন। এবার করলাগুলো মাছের ঝোলের মধ্যে রেখে দমে রান্না করতে হবে। এরপর গরম গরম পরিবেশন করুন।

চায়নিজ ডিম-করলা

উপকরণ :১. ডিম ২টা, কাঁচা মরিচ ২টা কুচি,২. ধনিয়াপাতা ১ টেবিল-চামচ,৩. লবণ কোয়ার্টার চা-চামচ,৪. হলুদ গুঁড়া সামান্য,৫. তেল ভাজার জন্য,৬. করলা আধা কাপ (স্লাইস),৭. পেঁয়াজ কুচি কোয়ার্টার কাপ।

প্রণালি :> প্রথমে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ধনিয়াপাতা, লবণ ও হলুদ একসঙ্গে মাখিয়ে নিন। এসব মিশিয়ে নিন ফেটানো ডিমের সঙ্গে। প্যানে তেল গরম করে তাতে উপকরণগুলো দিয়ে দিন। তারপর উপরে করলার স্লাইসগুলো বিছিয়ে নিন। এবার ডিমটা উল্টে দিন। ভাজা হলে গরম গরম পরিবেশন করুন।

বেসনে ভাজা করলা

উপকরণ :১. বড় করলা ১টা,২. বেসন ১ কাপ,৩. হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ,৪. মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ,৫. লবণ পরিমাণমতো,৬. খাবার সোডা কোয়ার্টার চা-চামচ,৭. তেল ভাজার জন্য।

প্রণালি :> প্রথমে করলা গোল গোল করে কেটে নিন। তারপর লবণ ও সামান্য হলুদ-মরিচ মাখিয়ে রাখুন। বেসনের মধ্যে লবণ, হলুদ, মরিচ ও সোডা দেয়ার পর পানি দিয়ে মাখিয়ে গোলা তৈরিকরতে হবে। করলাগুলো গোলায় ডুবিয়ে গরম তেলে ভাজতে হবে।

বড়ি-করলার ভর্তা

উপকরণ :১. বিচি ফেলে পাতলা স্লাইস করা করলা ১ কাপ,২. লবণ ১ চা-চামচ,৩. কুমড়া বড়ি সিঁকি কাপ,৪. পেঁয়াজ (মিহি স্লাইস) আধা কাপ,৫. কাঁচা মরিচ কুচি ২টি,৬. সরিষার তেল ২ চা-চামচ,৭. তেল ২ চা-চামচ।

প্রণালি :> বড়ি ধুয়ে পাটায় বা হামানদিস্তায় গুঁড়া করে নিন। করলায় আধা চা-চামচ লবণ মেখে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এবার করলা ভালো করে কচলে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে মৃদু আঁচে বড়ির গুঁড়া লালচে করে ভেজে নিন। ঠান্ডা হলে এক পাশে রেখে দিন। একটি বোল বা বাটিতে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি, লবণ ও সরিষার তেল মিশিয়ে ভালো করে কচলে মেখে নিন। তারপর করলা কুচি ও ভেজে রাখা বড়ির গুঁড়া দিয়ে মিশিয়ে মেখে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

সরিষা করলা

উপকরণ :১. করলা ২টা (লম্বা করে কেটে নিতে হবে),২. আলু ১টা,৩. সরিষাবাটা ১ টেবিল চামচ,৪. পোস্তবাটা ১ চা-চামচ,৫. হলুদ সামান্য পরিমাণ,৬. চিনি পরিমাণমতো,৭. লবণ স্বাদমতো,৮. কাঁচা মরিচ ৪-৫টি,৯. কালোজিরা সিকি চা-চামচ।

প্রণালি :> করলা লবণ দিয়ে মাখিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। আলু হালকা করে ভেজে নিন। কড়াইয়ে তেল দিয়ে কালোজিরা ফোড়ন দিতে হবে। সরিষা ও পোস্তাবাটা একসঙ্গে মিশিয়ে লবণ ও হলুদ দিয়ে কষাতে হবে। অল্প পানি দিয়ে ফুটে উঠলে করলা ও আলু দিতে হবে। কিছুক্ষণ ঢেকে রাখতে হবে। তেল ভেসে উঠলে কাঁচা মরিচ ও সামান্য চিনি দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।

আরও পড়ুন:  ৮ রকমের মন ভুলানো চচ্চড়ির রেসিপি, যেনে নিন রন্ধন পদ্ধতি সম্পর্কে

নারিকেল-চিংড়িতে করলা

উপকরণ :১. করলা ২ কাপ,২. লাল ও সবুজ ক্যাপসিকাম ১ কাপ,৩. তেল ৩ টেবিল চামচ,৪. গোটা জিরা ১ চা-চামচ,৫. পেঁয়াজ স্লাইস ১ কাপ,৬. হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ,৭. মরিচ গুঁড়া দেড় চা-চামচ,৮. জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ,৯. ধনিয়া গুঁড়া ১ চা-চামচ,১০. লবণ আধা চা-চামচ ও ১ চা-চামচ,১১. চিনি ১ টেবিল চামচ,১২. চিংড়ি মাছ ১ কাপ,১৩. নারিকেল বাটা ১ কাপ।

প্রণালি :> করলা ও ক্যাপসিকাম ২ ইঞ্চি লম্বা করে কেটে নিন। করলায় আধা চা-চামচ লবণ মেখে ৩০ মিনিট পর পানি নিংড়ে, ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। পাত্রে তেল গরম করে জিরার ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজের স্লাইস সোনালি করে ভেজে চিংড়ি মাছ ও করলা দিয়ে মাঝারি আঁচে ২ থেকে ৩ মিনিট রান্না করুন। এবার নারিকেল বাটা ও হলুদ গুঁড়া দিয়ে মাঝারি আঁচে ভালো করে মিশিয়ে ঢেকে ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করুন। ঢাকনা খুলে লবণ, ধনে গুঁড়া, জিরা গুঁড়া ও লাল মরিচের গুঁড়া দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। তারপর লাল ও সবুজ ক্যাপসিকাম দিয়ে আরও ৫ মিনিট মাঝারি আঁচে রাখুন। এবার চিনি মিশিয়ে নাড়ুন। কাঁচা মরিচ দিয়ে নেড়ে আরও ২ মিনিট মৃদু আঁচে রান্না করুন।

ডিম-করলার স্যুপ

উপকরণ :১. হাঁড়সহ ২৫০ গ্রাম মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি করা স্টক ৫ কাপ,২. পাতলা করে কাটা করলা ২৫০ গ্রাম,৩. মুরগির বুকের মাংস পাতলা কাটে ১০০ গ্রাম,৪. ফিশ বল ১০টি, ফেটানো ডিম ১টি,৫. লবণ আধা চা-চামচ,৬. তিলের তেল ২ চা-চামচ,৭. গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ।

প্রণালি :> পাঁচ কাপ পানিতে হাঁড়সহ মুরগির মাংস চুলায় চাপিয়ে ঢেকে আধা ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে স্টক করে নিন।করলা ধুয়ে বিচি ফেলে দিয়ে লবণ মেখে রেখে দিন। একটি বাটিতে মুরগির মাংস, লবণ, তিলের তেল ও গোলমরিচ গুঁড়া দিয়ে মিশিয়ে মেখে রেখে দিন কিছুক্ষণ। এবার চিকেন স্টক থেকে মুরগির হাঁড়গুলো উঠিয়ে স্টকে মেখে রাখা মুরগির মিশ্রণ দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট জ্বাল দিন। তারপর লবণ দিয়ে মেখে রাখা করলা চিপড়ে পানি নিংড়ে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে স্যুপে দিয়ে রান্না করুন কিছুক্ষণ। ২ থেকে ৩ মিনিট পর ফিশবল দিয়ে তারপর ফেটানো ডিম দিয়ে নাড়ুন। লবণ দেওয়ার প্রয়োজন হলে এক চিমটি লবণ দিয়ে নাড়ুন। ১ থেকে ২ মিনিট পর নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

উচ্ছে দিয়ে লাউ-ডাল

উপকরণ :১. মটর ডাল ২৫০ গ্রাম,২. কচি লাউ ১০-১২ টুকরা,৩. কাঁচা মরিচ ৫-৬টি,৪. মেথি সিকি চা-চামচ,৫. উচ্ছে গোল করে কাটা ১ কাপ,৬. লবণ পরিমাণমতো,৭. হলুদ অল্প পরিমাণ,৮. ঘি আধা টেবিল চামচ,৯. সরিষার তেল ৩ টেবিল চামচ,১০. শুকনা মরিচ ৪-৫টি,১১. আস্ত সরিষা আধা চা-চামচ,১২. আদাবাটা ১ চা-চামচ,১৩. তেজপাতা ১টা।

প্রণালি :> ডাল, লবণ, অল্প হলুদ ও তেজপাতা দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। সেদ্ধ হলে ডাল ঘুটনি দিয়ে ভালো করে ঘুটে নিতে হবে। টুকরো করা লাউগুলো দিয়ে দিন। লাউ আধা সেদ্ধ হলে নামিয়ে রাখতে হবে। পরে কড়াইয়ে তেল দিয়ে আস্ত সরিষা, অল্প মেথি, শুকনা মরিচ ফোড়ন দিয়ে দিন। ফোড়নের গন্ধ বের হলে উচ্ছে দিয়ে লাল করে ভেজে নিতে হবে। সেদ্ধ করে রাখা ডাল উচ্ছের মধ্যে ঢেলে দিন। ফুটে এলে নামানোর সময় ঘি দিয়ে নামিয়ে ফেলতে হবে।* উচ্ছে লবণ মাখিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তাহলে তিতা ভাবটা কমে যাবে।

আরও পড়ুন:  জিভে জল আনা ২৫ টি অসাধারণ ভর্তা রেসিপি

মুচমুচে করলা ভাজি

উপকরণ :১. পাতলা গোল করে কাটা করলা ২ কাপ,২. আলু (পাতলা গোল করে কাটা) ২ কাপ,৩. বেরেস্তা আধা কাপ,৪. কাঁচা মরিচ ৪টি,৫. লবণ দেড় চা-চামচ,৬. গোলমরিচ গুড়া সিঁকি চা-চামচ।

প্রণালি :> করলায় লবণ মেখে ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে দিন। করলা ধুয়ে পানি নিংড়ে আলাদা পাত্রে রাখুন। আলু কেটে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ভাজার আগে পানি ঝরিয়ে নিন। আলাদা পাত্রে করলা ও আলুতে লবণ মাখিয়ে রাখুন। ডুবোতেলে ভাজার জন্য কড়াইতে তেল গরম করুন। প্রথমে আলু তারপর করলা ভেজে মুচমুচে করে নিন। এবার তেল ছেঁকে উঠিয়ে আলাদা আলাদা পাত্রে কিচেন টাওয়েলে রাখুন, এতে বাড়তি তেল কিচেন টাওয়েল শুঁষে নেবে।প্রথমে মাঝারি আঁচে তারপর আঁচ কমিয়ে ভাজতে হবে। চুলা বন্ধ করে তারপর এই তেলে চুলা বন্ধ অবস্থাতেই কাঁচা মরিচগুলো ছেড়ে দিতে হবে। ৫ মিনিট পর তেল ছেঁকে উঠিয়ে ফেলুন।এবার একটি বড় বোলে মুচমুচে করলা, আলু, ভাজা কাঁচা মরিচ ও গোলমরিচ গুঁড়া দিয়ে মিশিয়ে পরিবেশন পাত্রে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

স্টাফড করলা

উপকরণ :১. মাঝারি করলা ৪টি,২. লবণ স্বাদমতো,৩. মুরগির কিমা ১ কাপ,৪. পেঁয়াজ পাতলা করে কাটা ১ কাপ,৫. কাঁচা মরিচ কুচি ৩-৪টি,৬. ঝুরি করা পনির আধা কাপ,৭. গরম মসলার গুঁড়া আধা চা-চামচ,৮. গোলমরিচ গুঁড়া সিঁকি চা-চামচ,৯. আদা বাটা আধা চা-চামচ,১০. রসুন বাটা আধা চা-চামচ,১১. চিনি আধা চা-চামচ,১২. তেল ৩ টেবিল চামচ,১৩. কুচানো ক্যাপসিকাম পরিমাণমতো,১৪. পুদিনা পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ।

প্রণালি :> করলা ধুয়ে দুই মুখের ধার একটু বেশি করে কেটে একেকটিকে তিন ভাগ করে নিন। ভেতরের বিচি ও শ্বাস চামচ বা পিলার দিয়ে কুরিয়ে বের করে নিন। সাবধানে কোরাতে হবে, যেন ভেঙে না যায়।এখন করলার ভেতরে ও বাইরে আধা চা-চামচ লবণ মেখে ২০ মিনিট রেখে দিন। করলা ভালো করে ধুয়ে পানি শুষে নেওয়ার জন্য কিচেন টাওয়েলে রাখুন। কড়াইতে সাদা তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ সোনালি করে ভেজে অল্প লবণ দিয়ে সেদ্ধ করা কিমা কিছুক্ষণ ভেজে নিন।

মাংসের রং পরিবর্তন হয়ে এলে তাতে সিরকা, চিনি ও আদা-রসুন বাটা দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। এবার জিরা বাটা, গোলমরিচ গুঁড়া দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। কাঁচা মরিচ কুচি দিয়ে নেড়ে ভাজা ভাজা করুন। তারপর গরম মসলা গুঁড়া দিয়ে নেড়ে অর্ধেক ঝুরি করা পনির মিশিয়ে দিয়ে নেড়ে চুলা বন্ধ করে দিন।> সামান্য লবণ মিশিয়ে করলার টুকরাগুলো একটু ব্লাঞ্চ করে নিন। বেকিং ট্রেতে সরিষার তেল ব্রাশ করে ২ ইঞ্চি দূরে দূরে ভাপিয়ে নেওয়া করলাগুলো বসিয়ে তার ভেতরে ১ টেবিল চামচ মাংসের কিমা দিয়ে ভালো করে চেপে তার ওপর ১ টেবিল চামচ ঝুরি করা পনির চেপে দিন। পুনরায় কিমা দিয়ে ওপরে ঝুরি করা পনির ও কুচানো ক্যাপসিকাম ছিটিয়ে প্রি-হিটেড ওভেনে ১৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ১৫ থেকে ২০ মিনিট বেক করুন। বেকিং ট্রে বের করে সাবধানে তুলে সার্ভিং ডিশে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

তথ্যসূত্রঃ মজার রান্না

বাংলা হেলথ কেয়ার /এসপি