প্রচ্ছদ রোগ ব্যাধি

মূত্রনালি পথে রস নিঃসরণ

57
মূত্রনালি পথে রস নিঃসরণ

যদি আপনার মূত্রনালি পথে রস নিঃসরণ হয় তাহলে সম্ভবত আপনার যৌনবাহিত সংক্রমণ রয়েছে,যা আপনি অন্যের মধ্যে ছড়াতে পারেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনি ডাক্তার দেখাবেন, এমনকি আপনার উপসর্গ চলে গেলেও।

মূত্রনালির প্রদাহের কারণ

মূত্রনালির প্রদাহকে চিকিত্সা পরিভাষায় বলে ইউরেথ্রাইটিস। মূত্রনালি হচ্ছে একটি নল,যা মূত্রথলি থেকে লিঙ্গের মাথা পর্যন্ত বিস্তৃত। মূত্রনালির প্রদাহ সাধারণত যৌনবাহিত সংক্রমণ দ্ব্বারা ঘটে। তবে সব সময় নয়। এটা সীমাবদ্ধ যৌন সম্পর্কের মধ্যেও ঘটতে পারে।

গণোরিয়া

এটা এক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণ যা মূত্রনালির প্রদাহ ঘটাতে পারে। নন-গণোকক্কাল ইউরেথ্রাইটিস গণোরিয়া ছাড়া অন্য যেকোনো কারণে মূত্রনালির প্রদাহ হলে তাকে নন-গনোকক্কাল ইউরেথ্রাইটিস বলে। এটার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ক্লামাইডিয়া নামক ব্যাকটেরিয়া। এটা এক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণ। এ ধরনের মূত্রনালির প্রদাহ অন্য ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দ্ব্বারাও ঘটতে পারে। কখনো কখনো কোনো সংক্রমণ ছাড়াও ঘটতে পারে। উদাহরণস্বরূপ মূত্রনালিতে আঘাত পেলে বা কোনো অপারেশন হলে প্রদাহ হতে পারে। কোনো কোনো পুরুষের একই সময়ে গণোরিয়ার জীবাণু এবং অন্য জীবাণু দ্ব্বারা মূত্রনালির প্রদাহ হতে পারে।

মূত্রনালির প্রদাহের উপসর্গগুলো কী

  • সাধারণত: বিশেষ অঙ্গ দিয়ে নি:সরণ বা তরল পদার্থ বের হয়, তবে সময় সময় নয়।
  • প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া করে। এটাকে অনেকে প্রস্রাবের ইনফেকশন বলে ভুল করতে পারেন।
  • লিঙ্গের মধ্যে জ্বালাপোড়া করতে পারে অথবা ঘন ঘন প্রস্রাব করার ইচ্ছা জাগতে পারে।
  • মূত্রনালির প্রদাহের কোনো কোনো পুরুষের কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ- ক্লামাইডিয়া সংক্রমণের অর্ধেক সংখ্যক পুরুষের কোনো উপসর্গ থাকে না।

কীভাবে রোগের উন্নতি ঘটে

উপসর্গগুলো অনেক সময় এমনিতেই চলে যায়। এ ক্ষেত্রে দু’সপ্তাহ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে যদি ব্যাকটেরিয়া জনিত কারণে যেমন- ক্লামাইডিয়ার কারণে মূত্রনালির প্রদাহ ঘটে তখন কিছু ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালিতে থেকে যায়। তখন অবশ্যই চিকিত্সার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে উপসর্গ চলে গেলেও চিকিত্সা করাতে হবে। যে ব্যাকটেরিয়াটি (ক্লামাইডিয়া) সচরাচর পুরুষদের মূত্রনালির প্রদাহ ঘটায়, সেটি মহিলাদের মারাত্মক সমস্যা ঘটাতে পারে।

মূত্রনালির প্রদাহ হলে কী করা উচিত

  • এটা কখনোই অবহেলা করবেন না। অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন, এমনকি আপনার উপসর্গ চলে গেলেও ডাক্তার দেখাবেন।
  • আপনার ডাক্তার আপনাকে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারেন। এসব পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে নিঃসরণ পরীক্ষা ও প্রস্রাব পরীক্ষা, যা আপনার সংক্রমণের কারণ নির্ণয়ে সাহায্য করবে।
  • অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত সংক্রমণ দূর করবে। তবে এটি নির্ভর করে রোগের কারণের ওপর।
  • আপনার যৌন সঙ্গিনীকেও ডাক্তার দেখাতে হবে, এমনকি তার কোনো উপসর্গ না থাকলেও। যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত অনেক মহিলার কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না।
  • আপনার ও আপনার সঙ্গিনীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিত্সা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেলামেশা করবেন না।
Loading Facebook Comments ...