বিকলাঙ্গ সন্তান হতে পারে প্লাস্টিকের কাপে চা পানে

বিকলাঙ্গ সন্তান হতে পারে প্লাস্টিকের কাপে চা পানে
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

শরীরের চাঙ্গা ভাব বজায় রাখার জন্য আমরা প্রতিদিন পান করি চা।  চা ছাড়া আমাদের চলেই না। দিনের শুরু থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে চা বা কফি।চা পান করতে আমরা সব সময় স্থান বা পরিবেশ লক্ষ্য রাখি না। যেমন চলার পথে কোনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো, তো গল্পে গল্পে সেখানে দাঁড়িয়েই রাস্তার পাশের দোকানের চা পান করছি।

ক্লান্তি কাটাতে, নিছক আড্ডা বা মেহমান আপ্যায়নে চা-কফির জুড়ি নেই। চায়ের কাপে চুমুক না দিলে আমাদের আড্ডাই জমে না। এই যখন অবস্থা, প্রিয় এই চা পান আবার আবার বিষ নয় তো!

অবাক হচ্ছেন তো, চা পান কীভাবে বিষ পান হয়, সব সময় তো চায়ের উপকারিতাই জেনে এসেছি। ঠিকই ধরেছেন, চায়ে কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা কাপে। তাও আবার সব কাপে নয়, কাপটি যদি হয় প্লাস্টিকে তৈরি, তবে সাবধান হোন। কারণ, বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্লাস্টিকের কাপে চা পানে নষ্ট হয় ভ্রূণ,সন্তান হতে পারে বিকলাঙ্গ।

আরও পড়ুন:  কাজের মাঝেই ব্যায়াম

সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রচলিত কাঁচ বা সিরামিকের চায়ের কাপের পরিবর্তে অনেক জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে প্লাস্টিকের কাপ। দামে সস্তা হওয়া আর ধোয়ার ঝামেলা এড়াতে দোকানিরা এসব প্লাস্টিকের চায়ের কাপ ব্যবহার করছেন। প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম কাপ দেওয়ায় চায়ের সঙ্গে এর দামটাও নিয়ে নিচ্ছেন বিক্রেতা।

গবেষকরা বলছেন, প্লাস্টিকের কাপে চায়ের গরম পানি ঢালার সঙ্গে সঙ্গে এর রাষসায়নিক বিক্রিয়ায় বিসফেলোন-এ তৈরি হয়। বিসফেনল-এ থাইরয়েড হরমনকে বাধা দেয়। বাধাপ্রাপ্ত হয় মস্কিকের গঠনও। গর্ভবতী নারীদের রক্ত থেকে বিসফেনল-এ যায় ভ্রূণে, নষ্ট হতে পারে ভ্রূণ, দেখা দিতে পারে বন্ধ্যাত্ব। আবার সন্তান বিকলাঙ্গও হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, প্লাস্টিকের কাপে চা পান অনেক দিন ধরে চলছে। কাপ বা কন্টেনাইর বিসফেনল-এ তৈরি করে এতে মারাত্বক ক্ষতি করে। আমরা না বুঝেই এসব ভুল করছি প্রতিনিয়ত, ডেকে আনছি বড় ধরনের বিপদ।

আরও পড়ুন:  *কুকুর কামড়ালে প্রাথমিক ভাবে করণীয়*

হোটেলগুলোতেও ব্যবহার হচ্ছে প্লাস্টিকের কাপ। ফুড সেফটি অথরিটির এগুলো দেখা দরকার। কিছু উন্নতমানের প্লাস্টিকের ব্যবহার হয় যেগুলো খুব বেশি ক্ষতিকর নয়, তবে আমাদের এখানে যেগুলো ব্যবহার করা হয় এগুলো খুবই নিম্নমানের। তাই প্লাস্টিকের বিকল্প কাপ ব্যবহার করলেই সুফল পাওয়া যাবে।

এবিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, শরীরে ক্যান্সার তৈরি করার প্রথম ১০টি কারণের মধ্যে একটি হলো প্লাস্টিক। মনে রাখতে হবে, এটা কাপ, বাটি কিংবা প্লাস্টিকের প্লেটের মাধ্যমে খাবারের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে। এতে কিডনি ড্যামেজ, লিভার অকেজো, বন্ধ্যাত্ব ও ভ্রূণ নষ্ট হতে পারে।

সুস্থ থাকতে চা-কফিতে প্লাস্টিকের কাপের পরিবর্তে কাঁচ, সিরামিকের কাপ বা মাটির ভাড় ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্রঃ বাংলা নিউজ ২৪

বাংলা হেলথ কেয়ার /এসপি