নতুন জীবন পেতে প্রতিদিন এই নিয়মে খান এক কাপ মসলা চা

নতুন জীবন পেতে প্রতিদিন এই নিয়মে খান এক কাপ মসলা চা
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

দিনের শুরুতে এক কাপ চা না হলে কি চলে? সকালে উঠেই ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চায়ে চুমুক না দিলে বাঙালির দিনটাই শুরু হয় না! তবে শুধু সকালের সঙ্গে চায়ের সম্পর্ক জুড়লে বহু কথা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। বাঙালি জীবনের সঙ্গে চায়ের প্রেম উঠতে বসতে, আড্ডায়, ঝগড়ায়, নিন্দেয়, প্রশংসায়, রাগে, প্রেমে, অভিমানে এবং মান ভঙ্গে! চা নিয়ে বাঙালির আহ্লাদও কম নয়। চা পানের বহরও বিভিন্ন— দুধ-চা, লাল-চা, লেবু-চা!

কিন্তু জানেন কি, ভারতীয় কিছু মশলার সংমিশ্রণে তৈরি চা খেলে আপনার রসনা তৃপ্তির পাশাপাশি শরীরও তরতাজা হয়ে উঠবে? ট্রেন্ডি দুনিয়ায় এই চায়ের নাম ‘মশালা টি’। তবে প্রাচীন বিশ্বের মানুষের কাছে ‘মশলা চায়ে’র কদর বিপুল। এই চায়ের গুণাগুণ প্রচুর। সেগুলি সম্বন্ধে জানার আগে এই চায়ের বিভিন্ন উপকরণ সম্বন্ধে জেনে নেওয়া দরকার।

এক কাপ মশলা চা বানাতে লাগে— ৫ গ্রাম চা পাতা, দু’কাপ জল, চারটি লবঙ্গ, দু’টি এলাচ, একটি দারুচিনি, ছয়টি গোলমরিচ, একটি তেজপাতা এবং এক টুকরো আদা।সাধারণত চায়ের গুণগত মান বজায় রাখতে দুধ এবং চিনি না মেশানোই ভালো। তবে কেউ চাইলে ১ কাপ ডাবল টোনড মিল্ক নিতে পারেন। আর চিনি মেশাতে পারেন স্বাদ মতো। তবে ডায়াবেটিস থাকলে বা স্থূলত্ব থাকলে চায়ে চিনি একদম খাওয়া যাবে না। বদলে ক্যালরি মুক্ত সুগার ফ্রি চলতে পারে।

আরও পড়ুন:  মৃত বাবা-মায়ের জন্য যে আমলগুলো শিখিয়েছেন মহান আল্লাহ ও রাসুল (সঃ) !

মশলা চায়ের গুণাগুণ

 দারুচিনির মধ্যে পলিফেনল এবং প্রোঅ্যাথোসায়াডিন নামক উপাদান রয়েছে। এই উপাদানগুলি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া দারুচিনি অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা রোধ করে। ফলে স্থূলত্বের রোগীর উপকার মেলে।

 আদার মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম এবং জিঙ্ক। এই দুই খনিজ ইমিউনিটি বাড়ায়। এছাড়া এই দুই খনিজ শরীরের রক্তপ্রবাহ সঠিক রাখে। পাশাপাশি আদার মধ্যে রয়েছে অ্যালালাইট সালফাইট নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টটি শরীরে সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

 গোলমরিচ পেটের সমস্যা কমায়। এছাড়া গোলমরিচের অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি গুণ রয়েছে। তাই গোলমরিচ সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ইউগেনল নামক উপাদান। এই উপাদানটি রক্তের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া লবঙ্গ কণ্ঠনালী, টনসিলের বিভিন্ন সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

 তেজপাতার মধ্যে খুব ভালো পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

 এছাড়া চায়ের নিজস্ব কিছু গুণ তো আছেই। চায়ের মধ্যে থিওফাইলিন নামক এক ধরনের যৌগ উপস্থিত থাকে। এই যৌগটি আমাদের কিডনির উপর কাজ করে মূত্রের পরিমাণ বাড়ায়। এর ফলে রক্তচাপ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া থিওফাইলিন ফুসফুসের বাতাসবাহী নালীগুলিকে প্রসারিত রাখতে পারে। এর ফলে ফুসফুসে অবাধভাবে বায়ুচলাচল সম্ভব হয়। হাঁপানি, শ্বাসকষ্টের আশঙ্কা কমে।

আরও পড়ুন:  ব্যর্থ সম্পর্ক আপনাকে যা শেখায়

 চায়ে ভিটামিন এ, বি কমপ্লেক্স, সি এবং বি৫ ভালো পরিমাণে রয়েছে। অপরদিকে খনিজের মধ্যে ম্যাঙ্গানিজ ও ফ্লুরিন চায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। আর অবশ্যই চায়ের যে গুণটি না বললেই নয়, তা হল, চা আমাদের মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স অংশকে উজ্জীবিত করে। ফলে আমাদের মনে ভালো থাকার অনুভূতি আসে। কাজে মন বসে।

তৈরি করার পদ্ধতি

এক্ষেত্রে প্রথমে চা বাদে অন্যান্য সমস্ত মশলা একজায়গায় এনে বেটে গুঁড়ো গুঁড়ো করে নিন। তারপর একটি পাত্রে জল নিয়ে চা এবং সমস্ত মশলা একসঙ্গে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। ব্যস তৈরি আপনার দুর্দান্ত পুষ্টিকর চা। এরপর শুধু ছেঁকে নিয়ে চমুক করার অপেক্ষা!

কতবার খাবেন?

দিনে একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ চার থেকে পাঁচবার চা পান করতে পারেন। তবে সন্তানসম্ভবা মায়ের পুষ্টিবিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে দিনে এক বা দুই বার চা পান করা উচিত। আর কাজ না থাকলে প্রতিটি মানুষেরই রাত ন’টার পর চা পান করা উচিত নয়। অধিক রাতে চা পান অনিদ্রার সমস্যা তৈরি করতে পারে।

লিখেছেন: সায়ন নস্করতথ্য সহায়তা: পুষ্টিবিদ অরিত্র খান

তথ্যসূত্রঃ দৈনিক বর্তমান

বাংলা হেলথ কেয়ার /এসপি