প্রচ্ছদ নারীর স্বাস্থ্য

অকাল গর্ভপাত সম্পর্কে যে ১০টি তথ্য আপনার একেবারেই অজানা

43
অকাল গর্ভপাত সম্পর্কে যে ১০টি তথ্য আপনার একেবারেই অজানা

“তিন সপ্তাহের আগে গর্ভধারণের কথা কাউকে বলো না!” সাধারণত গর্ভধারনকারী নারীদের বয়স্ক মহিলারা এই উপদেশ দিয়ে থাকেন। হয়তো আপনি একে কুসংস্কার বলবেন। কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক বৈজ্ঞানিক কারণ ও দূর্ঘটনার ভয়। অকাল গর্ভপাত বা মিসক্যারেজ।

অকাল গর্ভপাত বা মিসক্যারেজ শব্দটির সাথে কম বেশী আমরা সবাইই পরিচিত। নতুন গর্ভবতী মায়েদের কাছে এটি একটি ভীষন আতঙ্কের দুঃস্বপ্নের নাম। সাধারনত মায়ের গর্ভে প্রাকৃতিক কারনে ভ্রুণের অকাল মৃত্যুকে অকাল গর্ভপাত বলে। এটা মানুষের গর্ভধারণ প্রক্রিয়ার একটি অন্যতম জটিলতার নাম।

কিন্তু জেনে নিন গর্ভপাত সম্পর্কে এমন কিছু বিষয় যা আপনি আগে জানতেন না।

১। গর্ভপাতের হার আপনার ধারনার চেয়েও বেশীঃ

সাধারনত আমরা মনে করি, গর্ভপাত একটি দূর্ঘটনা এবং তা খুব কমক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন প্রায় ১৫% গর্ভধারণই শেষ পর্যন্ত রূপ নেই গর্ভপাতে। এবং যদি প্রাথমিক প্রেগন্যান্সি টেস্টের আগের সময় থেকে ধরা হয়, তবে এই হার প্রায় ৩০%।

২। গর্ভধারণের শুরুর দিকেই গর্ভপাত ঘটার সম্ভাবনা বেশীঃ

সাধারনত ডাক্তাররা হবু বাবা মা কে বলে থাকেন যাতে ২০ সপ্তাহের আগে প্রেগন্যান্সির খবর সবাইকে না বলা হয়, এমনকি গ্রামেও এটি সাংস্কৃতিক ভাবেই প্রচলিত। কারণ, সাধারনত গর্ভধারণের ১২ সপ্তাহের মধ্যেই গর্ভপাত হবার আশংকা বেশী থাকে। এর পরবর্তীতে রিস্ক কমে আসে।

৩। গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে আপনার অজান্তেইঃ

গর্ভধারনের প্রথম ১০ দিনের মাথায়ই আপনার অজান্তেই মিসক্যারেজ হয়ে যেতে পারে। রক্তপাত এর একটা খুব সাধারণ লক্ষণ। নারীরা একে পিরিয়ড ভেবে ভুল করতেই পারেন। কিন্তু যদি কখনো অতিরিক্ত রক্তপাত হয়, তবে ঝুঁকি না নিয়ে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। গর্ভপাত না ঠেকাতে পারলেও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা ও সংক্রমণ এড়াতে পারবেন।

৪। গর্ভপাতে মায়ের কোন দোষ নেইঃ

অকাল গর্ভপাত ঘটে মূলত ভ্রুণের অস্বাভাবিকতার কারণে, এটা আগে থেকে নির্ণয় করা কঠিন আর এতে মায়ের কোন দোষ নেই।

৫। বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেশীঃ

বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে মিসক্যারেজের ঝুঁকি বেশি। কেননা ডিম্বানুর বয়েসের কারণে জিনগত অস্বাভাবিকতার হার বেড়ে যায়।

৬। যৌনতার সাথে সম্পর্ক নেইঃ

আপনার যৌন জীবন, ব্যায়াম বা নিয়মিত হালকা কাজের সাথে অকাল গর্ভপাতের তেমন কোন সম্পর্কে নেই। তবে একটু সাবধান থাকা ভালো। কারণ, গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে আনপ্রোটেকডেট সেক্স করলে গর্ভপাতের হার বাড়ে।

৭। গর্ভপাত একাধিকবার হতে পারেঃ

গর্ভপাত একবার হলে আবারো হতে পারে।তাই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

৮। ফার্টিলিটির চিকিৎসা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারেঃ

সন্তান ধারনের জন্যে বেশি বয়েসে ফার্টিলিটির চিকিৎসা ও ঔষধ সেবনের কারনেও গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৯। ধূমপান, প্রত্যক্ষ হোক বা পরোক্ষঃ

প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপানের কারনেও হতে পারে গর্ভপাত। তাই নিজে ধূমপান তো করবেনই না এবং কোন ধূমপায়ীর আশেপাশে থাকা থেকে বিরত থাকুন।

১০। অতিরিক্ত ওজনের কারণে হতে পারে গর্ভপাতঃ

অতিরিক্ত ওজনের কারণে নানা স্বাস্থ্য সমস্যার পাশাপাশি হতে পারে গর্ভপাতও! যেমন ডায়াবেটিস, যা অতিরিক্ত ওজনের কারনেই হয়ে থাকে। এটি গর্ভপাতের একটি অন্যতম প্রধান কারণ।

গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা যেকোন নারীর ক্ষেত্রেই একটি দুঃখজনক বিষয়। তাই সাবধান থাকুন, সুস্থ থাকুন, সুস্থ রাখুন আপনার অনাগত অতিথিকেও!