প্রচ্ছদ দৈনিক খবর

এক চোখ ও এক পা হারানো সেই নুরুদ্দিনই আফগানিস্তানের আইনমন্ত্রী!

5



ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রচার ও অপকর্ম প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়ের প্রধান ও আইনমন্ত্রী মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবির এক চোখ ও এক পা নেই। তিনি রাশিয়ার বিরু’দ্ধে যু’দ্ধে ওই দুই অ’ঙ্গ হা’রিয়েছিলেন। তা’লেবানি শাসনের প্রথম আমলে নুরুদ্দিন ছিলেন আফ’গানিস্তানের আইনমন্ত্রী। কা’রাগা’রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্বপালন করেছেন তিনি। ইসলামিক আইন কিভাবে ব’লবৎ করা হবে বা তা ঠিকঠাক ব’লবৎ হচ্ছে কিনা, সেটা নুরুদ্দিনই দেখাশোনা করতেন।

দ্বিতীয় তা’লিবানি শাসনেও তার হাতে পড়ল সেই দায়িত্ব। বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ১৯৯৬-২০০১’র শাসনামলে অপ’রাধীকে প্রকাশ্যে গু’লি করে হ-ত্যা করা হতো। চুরি বা সামান্য কম মাত্রার অপরা’ধে হাত-পা কেটে দিত। এবারও সেই শাসনব্যবস্থারই ঘোষণা দিয়েছেন তালেবান বিচারমন্ত্রী মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবি।

শুক্রবার বার্তাসংস্থা এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি জানিয়েছেন, অ’পরাধ দম’নে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড ও হাত কা’টার শা’স্তিতে ফিরছে তালেবান। তিনি বলেন, আগের শাস’নামলের মতো ইসলামী আইন প্রয়োগ করে অপ’রাধ দ’মনে সচেষ্ট হবেন তারা। নুরুদ্দিন তুরাবি শুক্রবার বলেন, ‘আগের আমলে স্টেডিয়ামে, মসজিদে কিংবা ঈদগাহ মাঠে মৃ’ত্যুয’দণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আমরা সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলাম।

আমি বলতে চাই, আমরা কখনো সমালোচনাকারীদের আইন ও বিচারের বিষয়ে কোনো কথা বলিনি। আমাদের ব্যাপারেও তাদের কথা বলা উচিত নয়। আমরা ইসলাম মেনে চলব। কুরআনের ভিত্তিতে আমাদের আইন তৈরি করব।’ তবে এবার প্রকাশ্য মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের বিধান না-ও থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

তুরাবি জানান, ‘সাধারণত ইসলামী আইনে দো’ষী সাব্যস্ত হ-ত্যাকা’রীর মা’থায় গু’লি করে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড কার্যকর করা হয়। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবারের কেউ গু’লি চা’লানোর দায়িত্ব পায়। তবে র’ক্তের টাকা পরিশোধের মাধ্যমে অপ’রাধীর বেঁচে থাকার সুযোগ ছিল। হাইওয়েতে ডা’কাতির জন্য দো’ষী সাব্যস্ত হলে তাদের একটি হাত এবং একটি পা কেটে ফেলা হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ইসলামি আইন ও বিধিতে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। শান্তি ও ইসলামি শাসন আমাদের একমাত্র চাওয়া। আমাদের আগের শা’সনেও মানুষ খুব শান্তিতে ছিল। অপ’রাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি বলে মানুষের মাঝে অপ’রাধপ্রবণতা কম ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো অ’পরাধের বিচারের জন্য চার সাক্ষী থাকতে হবে। যদি সাক্ষীদের বয়ানে সামান্য পার্থক্য থাকে তাহলে কোনো শাস্তি হবে না।

কিন্তু যদি সবাই একই কথা বলে তাহলে শাস্তি হবে। সুপ্রিমকোর্ট এমন বিষয়ের দেখাশোনা করবে। তারা যদি দো’ষী হয়, তাহলে শা’স্তি পাবে। কাবুলের বাসিন্দা আমান এপিকে বলেন, ‘অপ’রাধীদের জনসমক্ষে ল’জ্জিত হতে দেখা ভালো ব্যাপার নয়। কিন্তু, এটা অ’পরাধ দম’নে সহায়ক। কারণ, মানুষ এটা দেখে সতর্ক হবে, যেন তাদের ক্ষেত্রে এমনটি না ঘটে। সূত্র: এএফপি, ডেইলি মেইল