দৈনিক খবর

আমি যাব না, ৪০ বছর ধরে আছি, এখন অন্য কোথায় যাব: স্ত্রীসহ অবস্থান নিয়ে সাক্কু

বিএনপি দেশজুড়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে গণসমাবেশ করছে। আর এই গণসমাবেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক সাড়া মিলছে। এদিকে সমাবেশ সফল করার জন্য দলটির ত্যাগী নেতাকর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এবার বিএনপির এই ধারাবাহিক সমাবেশ হবে কুমিল্লায়। আগামি ২৬ নভেম্বর দিন নির্ধারন করেছে বিএনপি। আর এই সমাবেশ সফল করার জন্য সমাবেশ স্থলে ৪ দিন আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছেন মনিরুল হক সাক্কু। তার সাথে এসেছেন তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) সাবেক মেয়র ও দল থেকে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু বলেছেন, দল আমাকে বহিষ্কার করলেও আমি দল ছেড়ে যাব না। ২৬তম জনসভা সফল করতে আমার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মাঠে আছি।

এদিকে নিজাম উদ্দিন কায়সার বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে সমাবেশ সফল করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাদের দুজনকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে (কুসিক) দলীয় নির্দেশের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ায় সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সারকে বহিষ্কার করা হয়। তবে এ জনসভায় নিজেদের সক্রিয়তা প্রমাণ করে দলে ফেরার চেষ্টা করছেন দুজনই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, দলের হাইকমান্ডের ইশারাতেই এই দুই বহিষ্কৃত নেতা মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ফলে নিজেদের পারফরম্যান্স ও শক্তি-সমর্থন দেখাতে মরিয়া কায়সার-সাক্কু।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত কুসিক নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়ে সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তাই সমাবেশের চার দিন আগে সমাবেশস্থলে অবস্থান নিয়েছেন সাক্কু। স্ত্রীর যাবতীয় কাজকর্ম তিনিই পরিচালনা করছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সমাবেশস্থলে বসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজও করেন সাক্কু দম্পতি।

এ সময় সাক্কু ও আফরোজা জেসমিন টিকলি শ্রমিকদের সামনে একে অপরের মুখে খাবার তুলে দেয়। এমনই একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

নিজাম উদ্দিন কায়সারও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ২৬তম জনসভা সফল করতে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি। এছাড়া অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে কর্মী প্রস্তুত করছি। আমার জীবন বিএনপির জন্য, বিএনপিই আমার শেষ আশ্রয়। দল আমার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে পূর্ণ শক্তিতে ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামব।

প্রসংগত, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি দল গোছানোর পাশাপাশি বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে আন্দোলন যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার জন্য বিএনপি ইতিমধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করেছে। মূলত দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার জন্য সারা দেশে সমাবেশ করছে বিএনপি।

Related Articles

Back to top button