আপনার শিশুর আক্রমণাত্মক আচরণ যেভাবে সামলাবেন, ডা. মুনতাসীর মারুফ

আপনার শিশুর আক্রমণাত্মক আচরণ যেভাবে সামলাবেন, ডা. মুনতাসীর মারুফ
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

শিশুরা মা’রামা’রির পরপরই সঙ্গীটির সঙ্গে ঝ’গড়া মিটিয়ে ভাব করে নিতে পারে।
কিন্তু কিছু শিশুর আ’ক্রম’ণাত্মক প্রবণতা অভিভাবকদের জন্য দু’শ্চিন্তার কারণ হতে পারে।

প্রায় নিয়মিত মা’রামা’রিতে অংশগ্রহণ করে এমন শিশু একধরনের মা’নসি’ক রো’গে (কন্ডাক্ট ডিজঅর্ডার) আ’ক্রা’ন্ত হয়ে থাকতে পারে।
বিভিন্ন সমস্যা অন্যদের ঠিকমতো বোঝাতে না পারলে, আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগলে, বাবা-মায়ের প্রতি রাগ বা অভিমান হলে অথবা তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য শিশুরা নানা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে পারে।
এ ছাড়া টিভিতে মা’রামা’রি ও হিংসা’ত্মক কা’র্টুন বা অনুষ্ঠান বেশি দেখলে বা পরিবারিক নির্যাতন নিয়মিত প্রত্যক্ষ করলে শিশুর মনোজগতের বিরাট ক্ষ’তি হয়। পরিণামে শিশুটি হিং’স্র’ হয়ে উঠতে পারে।
এসব ক্ষেত্রে শিশুকে ভালোমন্দ বুঝিয়ে বলুন, আচরণ পরিবর্তনের সুযোগ দিন। সে কোনো মান’সিক চাপে রয়েছে কি না, জানার চেষ্টা করুন।
ডা. মুনতাসীর মারুফজাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট।সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
শিশুর আক্রমণাত্মক মনোভাব
শিশুর বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেগে যাওয়ার বিষয়টিও খুব স্বাভাবিক। অন্য শিশুর সঙ্গে খেলনা নিয়ে মারামারি, চিৎকার করা– এগুলো প্রায়ই হয়। একটি শিশু যখন বড় হয়, তখন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানার সঙ্গে সঙ্গে খুব দ্রুত খেলার সাথী বা নির্দিষ্ট কোনো জিনিসের ওপর রাগ উঠতে পারে। ডে-কেয়ার, প্রি-স্কুলে প্রথমবার যাওয়ার কারণে বাড়ি থেকে দূরে থাকতে হয় বলেও শিশু ভীত হতে পারে। আর এ থেকেই তৈরি হতে পারে আক্রমণাত্মক মনোভাব।
শিশু যদি সবার কাছে উপেক্ষিত হয়, অন্য শিশুরা যদি তাকে বিরক্ত করে, ক্ষুধার্ত হলেও অনেক সময় শিশু নিজের ক্ষুধার মনোভাব সঠিকভাবে প্রকাশ করতে না পারে তবে সে আক্রমণাত্মক আচরণ করে। স্কুলে যদি নতুন কোনো বিষয় শেখায়, তবে সেটি না শিখতে পারলে, নতুন শিশুর সঙ্গে জোর করে বন্ধুত্ব করানোর চেষ্টা করলে, অল্প বয়সেই অনেক বেশি নিয়মের মধ্যে জড়িয়ে গেলে মনস্তাত্ত্বিক বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখিও হতে হয় শিশুকে।
করণীয় : প্রতিটি শিশুর আচরণ আলাদা হলেও রাগ করার বা আক্রমণাত্মক স্বভাবের কারণ বেশির ভাগ সময় একই থাকে। শিশু যেমন হুট করে রেগে যায়, আবার তাদের বুঝিয়ে বললে তারা বুঝতেও পারে। তাই শিশুর এমন ব্যবহারে তাদের প্রতি রাগ না দেখিয়ে তাদের আগে বুঝতে হবে, এরপর সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে কীভাবে শিশুকে এমন আচরণ থেকে দূরে রাখা যায়।
দেখে শেখা : শিশু যতই রাগ করুক, চিৎকার করুক কখনোই তাকে খারাপ বলা, তার প্রতি রাগ দেখানো, গায়ে হাত তোলা যাবে না। জোরে ধমক না দিয়ে শিশুকে ইশারায় বোঝান আপনি তার প্রতি রাগ হচ্ছেন। শিশু যখন বুঝতে পারবে আপনি নিজে রাগ নিয়ন্ত্রণ করছেন, তখন আপনাকে দেখে সেও বুঝতে পারবে কীভাবে রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
দ্রুত প্রতিক্রিয়া : শিশুকে যখনই রাগান্বিত হতে দেখবেন, তখনই তাকে আপনার প্রতিক্রিয়া জানান। ভাই-বোন বা খেলার সাথী যে কারও সঙ্গেই শিশুকে যদি রাগ করতে দেখেন, তখনই তাকে বোঝান তার আচরণ সঠিক নয়। সম্ভব হলে অন্য শিশুর কাছ থেকে তাকে আলাদা রাখুন কিছু সময়ের জন্য। সে যেন বুঝতে পারে পরে এমন কিছু করলে তাকে সবার কাছ থেকে আলাদা হতে হবে।
শিশুর সঙ্গে কথা বলুন : শিশুর এমন আচরণ নিয়ে অবশ্যই তার সঙ্গে কথা বলুন। ঘটনার ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টা পর তাকে জিজ্ঞেস করুন কেন সে অন্য শিশুর প্রতি রেগে গিয়েছিল। তাকে বোঝান, মাঝে মাঝে রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক কিন্তু কখনোই অন্যকে শারীরিকভাবে আঘাত করে নয়। শিশু যদি রাগের সময় আঘাত করার চেষ্টা করে, তবে কিছু সময়ের জন্য তার হাত দুটো শক্ত করে ধরে রাখুন।
ধীরে ধীরে সে শান্ত হয়ে আসবে। তখন তাকে বলুন তার এমন আচরণ কেন অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। শিশুকে যখন বইয়ের কোনো গল্প পড়ে শোনানো হয়, তখন গল্পের সারাংশের সঙ্গে মিলিয়ে তার আচরণের কথা বলা যায়। এতে শিশু ঠাণ্ডা মাথায় বুঝতে পারবে কোনটি সঠিক, কোনটি ভুল।
ভালো আচরণের জন্য পুরস্কার : শুধু খারাপ আচরণের জন্য শিশুকে বকা না দিয়ে মাঝে মাঝে তার ভালো আচরণের জন্যও তাকে পুরস্কৃত করুন।
দায়িত্ব নিতে শেখানো : শিশু যদি কোনো জিনিস নষ্ট করে বা এলোমেলো করে, তবে তাকেই সেটি গুছিয়ে নিতে শেখান। এতে তার মধ্যে দায়িত্ববোধ কাজ করবে। শিশু তার নিজ আচরণে দুঃখিত হচ্ছে কি না– সেটিও খেয়াল করুন।
ডিজিটাল বিষয়ে সচেতন : কার্টুন, সিনেমা, সিরিজ দেখেও শিশু অনেক সময় চিৎকার বা মারামারি করা, ভয় দেখানো বিষয়গুলো শিখতে পারে। সে যখন ডিজিটাল কোনো কিছু ব্যবহার করবে, তখন নিশ্চিত করুন সে যেন এগুলো দেখে শুধু আনন্দ পায়, মোটেও আক্রমণাত্মক কোনো কিছু যেন না শেখে।
বেবি সেন্টার
৫০০০+ মজদার রেসিপির জন্য Google Play store থেকে Install করুন “Bangla Recipes” মোবাইল app…. 🙂.মোবাইল app Download Link >>> https://bit.ly/2YsK4MO

আরও পড়ুন:  অত্যাচারী যতই বিশাল হোক তার পতন নিশ্চিত!

বাংলা হেলথ কেয়ার /এসপি

  • 1
    Share